মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৈরি 'শাহেদ' ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় এই অনুরোধ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের এই আহ্বানের পর তিনি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রায় চার বছরের সামরিক অভিযানের সময় ইউক্রেন অত্যন্ত কম খরচে কার্যকর ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বিশেষ করে আকাশে উড়ন্ত ড্রোনকে মাঝপথে ধ্বংস করতে সক্ষম 'ড্রোন ইন্টারসেপ্টর' প্রযুক্তিতে কিয়েভ এখন বিশ্বে অন্যতম সেরা। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তারা ইরানের শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছে।
গত মঙ্গলবার জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের (যেমন প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩) বিনিময়ে ইউক্রেন তাদের এই ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি শেয়ার করতে প্রস্তুত। এটি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে, কারণ দামী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সস্তা ড্রোন ধ্বংস করা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা চাওয়ার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্কের টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, ‘জেলেনস্কিকে এখন একটি সমঝোতায় আসতে হবে। সমঝোতার পথে তাঁর বাধা হওয়া অকল্পনীয়।’ উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প দ্রুততম সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ইরানের হামলায় গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক ড্রোন একসঙ্গে মোকাবিলা করা বর্তমানে তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।