হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মাঝেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত ‘শেষের পথে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি একে সংঘাত অবসানের ‘দ্বারপ্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবরোধের দ্বিতীয় দিন পার করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অবরোধকৃত এলাকা দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারেনি, যার ফলে সমুদ্রপথে ইরানের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ২১ এপ্রিল শেষ হতে চলা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ওপরও। সংঘাতপূর্ণ এই আবহেও ট্রাম্প আশাবাদী যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন ঘটতে পারে।
শান্তি আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতায় উভয় দেশের প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আবারও ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মধ্যে ২১ ঘণ্টা ব্যাপী ম্যারাথন আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই দীর্ঘ বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। তবে একদিকে যখন শান্তির কথা হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।