দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে কঠোর প্রশাসনিক তৎপরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, এলপিজির বাজারে বর্তমানে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে কোনো বাস্তব সংকট নেই; বরং পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম সামান্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাব্য দাম সমন্বয়ের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একাধিক ব্যবসায়ী আগেভাগেই সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এর ফলে বাজারে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয় এবং এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তাঁর ভাষায়, ‘এলপিজির দামে এই ধরনের অস্বাভাবিকতার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এটি পুরোপুরি কারসাজির ফল।’
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি জেলায় এলপিজির মূল্য তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাবে। এ বিষয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারসাজির সঙ্গে কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, মূলত খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই মিলিতভাবে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা বা অবৈধভাবে মজুতের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তাঁর আশা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খুব দ্রুতই এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরে যাবে।