পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় চূড়ান্ত স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিম অনুযায়ী, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে এবং যেকোনো সময় উত্তোলন করা যাবে। এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কিস্তিতে অর্থ তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের আমানত ফেরত ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত স্কিম চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সাধারণ আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ‘আমানত সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। একীভূত কার্যকর হওয়ার পরবর্তী কার্যদিবস থেকেই এই অর্থ উত্তোলন করা যাবে।
দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে ধাপে ধাপে। সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ধরনের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের জন্য একই সূচি প্রযোজ্য হবে। স্কিম অনুযায়ী, দুই লাখ টাকার অতিরিক্ত অংশের প্রথম এক লাখ টাকা তিন মাস পর তোলা যাবে। এরপর প্রতি ধাপে এক লাখ টাকা করে ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮ ও ২১ মাস পর উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। অবশিষ্ট পুরো অর্থ পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২৪ মাস শেষে।
তবে গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধা রাখা হয়েছে। ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত গ্রাহকেরা চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়সীমা বা সীমার বাইরে গিয়েও তাঁদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণ আমানতকারীরা তাঁদের স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। তিন মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানত স্কিম কার্যকর হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনবার নবায়ন হবে। তিন থেকে ছয় মাস ও ছয় থেকে বারো মাস মেয়াদি আমানত যথাক্রমে দুইবার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
এ ছাড়া এক থেকে দুই বছর মেয়াদি আমানত তিন বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তরিত হবে। দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি আমানত চার বছর মেয়াদি এবং তিন থেকে চার বছর মেয়াদি আমানত পাঁচ বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তর করা হবে। চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির পর পরিশোধযোগ্য থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে নতুন একটি ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংক পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে সাত সদস্যের একটি পর্ষদ গঠন করা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য থাকবেন স্বতন্ত্র পরিচালক।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন এই ব্যাংকের লোগোও উন্মোচন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা স্কিমের মাধ্যমে সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।