ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে ৪ টাকা ২১ পয়সা বেড়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা, যা গত ডিসেম্বরের ১ হাজার ৩০৬ টাকার তুলনায় ৫০ টাকা বেশি।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে এই দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডার ঘিরে গত এক মাস ধরে সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানা গেছে। এতে অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী দাম ঘোষণা করছে। সরবরাহ কম থাকায় অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিইআরসির নতুন দরে মূল্য সংযোজন করসহ বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৪ পয়সা। গত মাসে ছিল ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা। ফলে কেজিতে দাম বেড়েছে ৪ টাকা ৪২ পয়সা। এই হিসাবে বাজারে থাকা বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় হবে।
অন্যদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি করা হয়, যার আন্তর্জাতিক মূল্য সৌদি আরবের আরামকোর প্রকাশিত সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) অনুযায়ী ওঠানামা করে। এই সিপিকে ভিত্তি ধরে এবং আমদানিকারকের ইনভয়েস মূল্য ও মাসজুড়ে ডলারের গড় দর বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দেশের বাজারের দাম সমন্বয় করে।