বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সহজ ও শক্তিশালী করতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত দেড় বছরে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো হাইকমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে বন্ধ থাকা বর্ডার হাট ও স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়ায় ভারতের সহযোগিতামূলক অবস্থান আশা করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে মানুষকেন্দ্রিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে চায়। তিনি আশ্বাস দেন যে, ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারত পর্যটকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান সীমিত করে রেখেছিল। হাইকমিশনার আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা সম্ভব এবং ভারত বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, যা আমাদের ওপরও আসতে পারে। তবে আশার কথা হলো, দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। যদিও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) বা ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলো নিয়ে এই বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি।