উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে করা ওই মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপপুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরা পশ্চিম থানায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। রোববার রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা ওই অভিযোগে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ এই অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন মারিয়া কিসপট্টা ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীরা দেশে থেকে বিভিন্ন কৌশলে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, এসব বক্তব্য ও অনলাইন তৎপরতার ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা উসকানি পাচ্ছে। এর ফল হিসেবে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতা ও অবকাঠামো ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।