জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে ফল গণনায় গিয়ে জটিলতায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার সময় এক ভোটের গরমিল ধরা পড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গণনা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে টেকনিক্যাল সমস্যার কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা সাময়িক স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় জকসু ও একটি হল সংসদের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ৩৯টি কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনা হয়। মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
তবে মিলনায়তনে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ১৫ মিনিট পরই গণনা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের বাইরে পাঠিয়ে আধা ঘণ্টা পর আবার গণনা শুরু হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক ভোটের গরমিল ধরা পড়লে পুনরায় কাজ থমকে যায়। রাত ৯টা পর্যন্ত আর গণনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম রাত পৌনে ৯টার দিকে বলেন, ‘একটা সমস্যা পড়েছি, সমাধানের পথ খুঁজছি। আমরা যে সমাধান দেব, আশা করি সবাই সেটা পছন্দ করবে।’ পরে মাইকে তিনি জানান, ‘দুইবারে গণনার ক্ষেত্রে আমরা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধকতা কোথায় ঘটেছে, সেটা ফাইন্ড আউট করে কিছুক্ষণের মধ্যে জানিয়ে দেব।’
গণনায় যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, শুরুতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ব্যালট গণনা করা হয়। প্রথমে তিনটি ওএমআর মেশিনে ব্যালট দেওয়া হয়। গণনার সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য একই ব্যালট অন্য তিনটি মেশিনে দেওয়া হলে একটি ভোটের পার্থক্য দেখা যায়। কেন এই পার্থক্য হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে না পারায় গণনা স্থগিত রাখা হয়।
এরপর রাত ৯টা ২০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনার ড. আনিসুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘ভোট গণনার জন্য আমরা দুটো কোম্পানি থেকে মোট ছয়টি মেশিন এনেছি। কিন্তু কিছুক্ষণ ধরে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এই মুহূর্তে ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা এখন কেন্দ্রীয় সংসদের সব ভিপি-জিএস প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মেশিনে গণনার সময় দুটি মেশিনে আলাদা আলাদা ফলাফল দেখায়। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গণনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সব প্যানেলের ভিপি ও জিএস প্রার্থীদের নিয়ে মক ভোটের আয়োজন করা হয়। ভোট শেষে মেশিনে ভোট গণনার পক্ষে সব প্রার্থী লিখিত মতামত দেন। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা ও এজিএস প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল উপস্থিত থেকে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন। তবে পরদিন ৫ জানুয়ারি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল মেশিনে গণনা থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার দাবি তোলে।