আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরাও ভোট দিতে পারবেন এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন; স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ কি পারে সেটি নভেম্বর মাসে দেখেছি। তাদের নেত্রীর যখন বিচারের রায় হলো, তার আগে যখন হরতালে হলো । তারা কি পারে? তারা দু-একটা ককটেল মারতে পারে। কিছু গির্জায়, বাসে ককটেল মেরে আগুণ দিয়ে একজনকে মেরে ফেলেছে। এর বাইরে তারা একটি মিছিল ডাকতে পারে। কেউ যায়ও না তাদের মিছিলে। যারা ডলার বাইরে নিয়ে গেছে তারা কি এত বোকা, ডলার পাঠিয়ে আবার মিছিল করাবে। তারা জানে নেত্রী আর আসতেছে না, আস্তে করে সে ডলার অন্য খাতে ব্যয় করছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রেস সচিব জানান, দেশের সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। কোথায় কী ঘটছে তা তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি একটি মনিটরিং অ্যাপও তৈরি করা হচ্ছে—যেমনটি দুর্গাপূজার সময় ব্যবহৃত হয়েছিল—এবার তা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো হবে।
আন্তর্জাতিক চাপের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী এবং তারা বিশ্বাস করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা তারা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন ঘিরে সংশয় প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ইউটিউব ও টিকটকে—কিছু ব্যক্তি অতিরঞ্জিত সংশয় ছড়াচ্ছেন। তাঁর মতে, এসবের বাস্তব ভিত্তি নেই; নির্বাচন ভালোভাবেই হবে এবং একে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা কারও নেই।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) উবায়দুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম।