কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে, পুলিশকে ২৫ হাজার ৭০০ বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হবে, ড্রোনও ব্যবহার করা হবে। এরপরও কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তার পরিচয় যে-ই হোক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন নিয়ে বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্র দখল যেন না হয়, সেজন্য এবার সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে, পুলিশকে ২৫ হাজার ৭০০ বডিওর্ন ক্যামেরা দিচ্ছি, ড্রোন ব্যবহার করছি। এরপরও যদি কেউ কোনো রকম এদিক-সেদিক করতে যায়, তাহলে কেউ ছাড় পাবে না… সে ভাই হোক বা বোন হোক… জামিনের পরে হলেও সে ধরা খাবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)সহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো অংশ নেয় এবং প্রস্তুতি ‘ভালো’ বলে তারা দেখেছেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ঝিনাইগাতির ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর জড়িতরা অনেক সময় এলাকায় থাকে না—ফলে তাদের ধরতে সময় লাগতে পারে, তবে আইনি ব্যবস্থা হবে।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের কোথাও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি; ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে, তবে বড় কোনো ঘটনা নেই।
ফল ঘোষণায় বিলম্বের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফলাফল প্রস্তুত হলেই তা ঘোষণা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট থাকবেন—এজেন্টরা তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইলে ভোটের হিসাব জানিয়ে দিতে পারবেন, ফলে সরকারি ঘোষণা আসার আগেই অনেক ক্ষেত্রে ফল জানা যায়।
সভা শেষে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী, ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়া, র্যাব–১৪-এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হক, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।