পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও নামাজের সময় ঘরবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়সীমা ৩ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৬ ঘণ্টা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক চিঠির মাধ্যমে এই নতুন সময়সূচির কথা জানিয়েছে।
নতুন সময়সূচি ও কার্যকরকাল
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ রমজান থেকে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত (মোট ৬ ঘণ্টা) সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। আগে এই সময়সীমা ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মূলত ইফতারের সময় গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখতেই এই সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। এরপর ২৬ মার্চ থেকে পুনরায় আগের সময়সূচি (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা) কার্যকর হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসে ইফতার ও নামাজের সময় সাধারণ মানুষের ঘরোয়া গ্যাসের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বাড়তি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গ্যাস বিতরণ লাইনে স্বল্পচাপ জনিত সমস্যা মোকাবিলা করে গৃহস্থালি ও বিদ্যুৎ খাতকে প্রাধান্য দিতেই স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের ফলে রমজান মাসে গণপরিবহন চালকদের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ইফতারের সময় সাধারণ মানুষের গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের আগে ১০ দিন স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে।