হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে এই তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবহনের জন্য এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আগে থেকেই এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। তেহরানের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো নৌপথ বন্ধ না হলেও নির্দিষ্ট দেশের জন্য পথটি সংরুদ্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কোনো দেশ থেকে সরাসরি হামলা না হলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে চালানো হামলার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের শুরুতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো দেশগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় ইরান হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করে আসছে।
উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের এই নমনীয় অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে সংঘাতকে কেবল নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।