শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
| ২ কার্তিক ১৪৩৩
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ জব্দের পাল্টাপাল্টি ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় এক ভয়াবহ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দুটি বিশাল বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেলসহ দুটি ট্যাংকার জব্দের দাবি করেছে।
ইরানের সাথে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ভেস্তে যায়, তবে দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সামরিক সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করে দিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মূলত বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবার ইরানের ‘ডায়নামিক টার্গেট’ বা চলন্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে প্রধান নিশানায় পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজগুলো দ্রুতই পার হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক শোক সমাবেশ ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চরম উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আশা জাগানিয়া এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আপাতত ভেস্তে গেছে।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ইরানকে সামরিকভাবে ‘সম্পূর্ণ পরাজিত’ দাবি করার পাশাপাশি ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’ (praise be to Allah) বাক্যটি ব্যবহার করেছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে উভয় পক্ষকে আন্তরিকতার সাথে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনার সূত্র ধরে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক অস্বীকার করার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন।