ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ইরানকে সামরিকভাবে ‘সম্পূর্ণ পরাজিত’ দাবি করার পাশাপাশি ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’ (praise be to Allah) বাক্যটি ব্যবহার করেছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন। নিজের পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশটির ড্রোন ও মিসাইল তৈরির কারখানাগুলোও এখন অস্তিত্বহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের দেওয়া কৃতিত্ব এবং সেখানে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের ধরন নিয়ে। ইরানের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব আর ক্ষমতায় নেই—এমন দাবি করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের দীর্ঘদিনের নেতারা আর আমাদের মাঝে নেই, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’ তার এই বক্তব্যকে অনেকেই ব্যঙ্গাত্মক কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা কোনো নেতার মুখে এ ধরনের শব্দচয়ন নতুন এক মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে নিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সত্যতা মেলেনি। এমনকি হোয়াইট হাউস কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইসলামাবাদের চলমান আলোচনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।