ওয়ান ইলেভেনের আরেক কুশীলব ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. আফজাল নাছের (৬১) আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোববার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) রবিউল হোসেন ভূঁইয়া।
আফজাল নাছের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৮৪ সালে। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। এক এগারোর সময়ে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নির্যাতনে বার বার নাম আসে এই আফজালের। অবশেষে আটক হলেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে ভাটারায় জুলাইয়ে একটি হত্যা মামলা আছে। এর আগে তিন দিনের ব্যবধানে গ্রেফতার হন এক এগারোর আলোচিত দুই সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ। দুজনই আছেন ডিবির রিমান্ডে।
এর মধ্যে জেনারেল মাসুদকে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর জেনারেল মামুনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতারের পর আবারও আলোচনায় আসে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে গঠিত এক-এগারো সরকার।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারির দায় এখনও স্বীকার করেননি তারা। আর বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেফতার-নির্যাতনের দায় অন্যদের ওপর চাপিয়েছেন দুজন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আছে, তা বিচার বিশ্লেষণ করছি। এটা তদন্তের বিষয়।’
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এক-এগারোর আগে তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে চাপ দিয়েছিলেন মাসুদসহ ৬ সেনা কর্মকর্তা। বাকিদের বিষেয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, সেই সময় গ্রেফতার-নির্যাতন, দুর্নীতি, জিম্মি করে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার আহ্বান পুলিশের।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আমরা বলেছি, আপনারা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন, আইনগত ব্যবস্থা আমরা নেব।’