জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের সদস্যসচিব সৈয়দা নীলিমা দোলা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে পাঠানো পদত্যাগপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নিজের পদত্যাগপত্রে দোলা উল্লেখ করেছেন, তিনি এনসিপির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। সম্প্রতি দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় প্রবেশ করেছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
দোলা বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট হয়েছে, তা কোনো কৌশলগত জোট নয়। এই জোটের কারণে অনেক নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন। মনোনয়ন প্রদানের নামে দলের নেতা-কর্মীদের চোখে ধুলো দেওয়া হয়েছে এবং প্রতারণা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাকে কেউ কোনো ক্ষমতা দেয়নি, বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে। যারা পদত্যাগ করেছেন তাদেরকে বামপন্থী বলে চিহ্নিত করা একটা পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যাতে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ হয়।’
দোলা তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তিনি এনসিপিতে আসার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এনসিপিতে থাকাকালীন তিনি দলকে সেন্ট্রিস্ট অবস্থানে রাখার জন্য নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া ও হিন্দু সম্প্রদায়কে একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে, দলগত নীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে দায়সারা মনোভাব তাঁকে হতাশ করেছে।
পদত্যাগের মাধ্যমে দোলা জানান, বাংলাদেশে এনসিপি ছাড়া জুলাইয়ের আরও একটি পক্ষশক্তি আছে, যারা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাস্তবতাকে চেনে। শেষ অংশে তিনি বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে রাজনৈতিক খেলায় শহীদদের রক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ জুলাই মাসে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান ঘটেনি।
দোলা ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগপত্র উন্মুক্ত করেছেন বন্ধু, কমরেড ও সাংবাদিকদের জন্য, যাতে তার বক্তব্য ও অবস্থান সকলের কাছে স্পষ্ট হয়।