মাঠ এবং মাঠের বাইরে নানা ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলো লাতিন বাংলা সুপার কাপ। ব্রাজিলের সাও বার্নার্ডো ও আর্জেন্টিনা অ্যাথলেটিকো চালোন ক্লাবের অনূর্ধ্ব-২০ দল এবং বাংলাদেশের উদীয়মান ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া অনূর্ধ্ব-২০ দল এ আসরে অংশগ্রহণ করে, যা নেতিবাচক নানা ঘটনায় মাঝপথে থমকে গেছে।
আসরের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ক্লদিও ক্যানিজিয়া ও ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুকে ঢাকায় আনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি আয়োজক ‘এএফ বক্সিং প্রমোশন’ নামের প্রতিষ্ঠান। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। উল্টো নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিক লাঞ্ছিত করে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। ফুটবল মাঠ প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াওর দৃশ্য ছিল ‘জুডো’ প্রদর্শনীর মতো! সব মিলিয়ে লাতিন বাংলা সুপার কাপের নামে মঞ্চস্ত হলো সার্কাস। নানা নেতিবাচক ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে এমন আয়োজন? উত্তর জানা নেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্বশীলদের।
স্থানীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কম্পিটিশন্স কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউসের কণ্ঠে ছিল দায় এড়ানোর সুর, ‘আমরা আসর আয়োজনে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নই। বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠান এটা আয়োজন করছে। আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছি, যাতে উদীয়মান ফুটবলাররা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু এখানে যা হলো, তাকে এক কথায় বলব দুঃখজনক।’
প্রশ্নটা হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠান ফুটবল কর্মকাণ্ড আয়োজনে স্বীকৃত নয়, তাদের সঙ্গে বাফুফের যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তটা কার স্বার্থে? এমন একটা সময় ‘লাতিন বাংলা সুপার কাপ’ নামে সার্কাস মঞ্চস্থ হলো, যখন দেশের ফুটবল সকল দিক থেকে ইতিবাচক পথে হাঁটছে। হামজা চৌধুরী-সামিত সোমদের মতো তারকা ফুটবলার আছেন জাতীয় দলে। আছেন ফাহমেদুল ইসলাম-জায়ান আহমেদের মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ। যাঁদের উপস্থিতিতে জাতীয় ফুটবল দল ইতিবাচক ফুটবল খেলছে। দেশ-বিদেশে খেলাটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ছে। সিনিয়র নারী দলও ইতিবাচক নৈপুণ্যের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ, ২০২৪ সালে সেটা ধরেও রাখা গেছে। প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপে পা রেখেছে বাংলাদেশ। সিনিয়রদের পথ অনুসরণ করে অনূর্ধ্ব-২০ দলও প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে।
মাঠের এসব ইতিবাচক কার্যক্রমের প্রভাব হিসেবে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো ফুটবলে লাইন দিচ্ছে। বুধবার দেশের ফুটবল উন্নয়নে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিএসআরএম। ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা কার্যক্রমে অংশীদার হবে এ প্রতিষ্ঠান। পুরুষ সিনিয়র জাতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে ইউসিবি। নারী দলের পার্টনার ঢাকা ব্যাংক। যুব কার্যক্রমের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আছে রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যাল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পৃষ্ঠপোষক ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার।
ইতিবাচক প্রেক্ষাপট তৈরি করা ফুটবলকে সামনে এগিয়ে নিতে যখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, তখন নেতিবাচক ঘটনায় জড়িয়ে সমালোচিত হয়েছে বাফুফে। লাতিন বাংলা সুপার কাপের ভেন্যু ছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম। ভেন্যু ব্যবহারের জন্য করা চুক্তিতে যে শর্ত ছিল, তা পূরণ করতে না পারায় বরাদ্দ বাতিল করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সার্কাস কি কেবল বাইরে ছিল? দেখা গেছে মাঠেও। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার ইহসান হাবিব রেদোয়ান যে প্রক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার ক্লাব অ্যাথলেটিকো চার্লোনের এক খেলোয়াড়কে লাথি দিয়েছেন, তা ফুটবলের স্পিরিটের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না!