আইপিএল শুরু হওয়ার কথা ২৬ মার্চ, শেষ ৩১ মে। প্রায় পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র পেয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এপ্রিলের দ্বিতীয় ভাগে এক সপ্তাহের জন্যই কেবল জাতীয় দলের কারণে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় পুরো আসর থেকেই মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। ফলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে—নিলামে ওঠা ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি কি তিনি আদৌ পাবেন?
আইপিএলে খেলোয়াড়দের চুক্তিসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, বিসিসিআই যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে খেলা থেকে বিরত রাখা বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে। তবে মোস্তাফিজের বিষয়টি আইপিএলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নিলামের মাধ্যমে দলে নেওয়ার পর কেবল রাজনৈতিক কারণে কোনো খেলোয়াড়কে সরিয়ে দেওয়ার উদাহরণ আগে দেখা যায়নি। ফলে পারিশ্রমিকের প্রশ্নে বিসিসিআইকেই নতুন সিদ্ধান্ত বা নজির স্থাপন করতে হতে পারে।
আইপিএলে ‘নো প্লে, নো পে’ নীতি চালু আছে। কোনো খেলোয়াড় নিলামে কেনার পর যদি একটি ম্যাচও না খেলেই চোট বা অন্য যেকোনো কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যান—তাহলে তিনি পারিশ্রমিক পান না। তবে মোস্তাফিজের পরিস্থিতি এই নিয়মের সঙ্গে সরাসরি মেলে না।
এ ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতিবাদের মুখে, বোর্ডের নির্দেশেই ফ্র্যাঞ্চাইজি মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিলামের পর খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়। খেলোয়াড় যদি ফিট থাকেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টে তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দিতে হয়।
তবে মোস্তাফিজের সঙ্গে কেকেআরের সেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড় দলে যোগ দেওয়ার পর এই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আইপিএলের নিয়মে কেবল তখনই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পারিশ্রমিক দিতে হয় না, যখন খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিং, দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘন, ডোপিং, আচরণবিধি ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া অন্য লিগের সঙ্গে যোগাযোগ বা অনাপত্তিপত্র ছাড়া বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের মতো কারণে নিষিদ্ধ হন। মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের কোনোটি নেই।
তাহলে কি ধরে নেওয়া যায়, নিলামে ওঠা অর্থ তিনি নিশ্চিতভাবেই পাবেন? আপাতত সে সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাচ্ছে না। কারণ, বিসিসিআই কেকেআরকে জানিয়েছে, চাইলে তারা বদলি খেলোয়াড় নিতে পারবে। আইপিএলে প্রতিটি দলের জন্য খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বাজেট সীমা রয়েছে। এখানেই আবার প্রশ্ন উঠছে—কলকাতা তো খেলোয়াড়কে নিজেরা ছাড়েনি, বোর্ডের নির্দেশেই ছাড়তে হয়েছে।
সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে যাচ্ছে বিসিসিআইয়ের কাছেই, যারা মোস্তাফিজের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের তারকা পেসার নিলামে পাওয়া অর্থ পাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তও আসবে একই জায়গা থেকে। কারণ, পুরো ঘটনাটি আইপিএলের ১৯ বছরের ইতিহাসে একেবারেই নজিরবিহীন।