যশোর শহরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। শশনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমগীর হোসেন সন্ধ্যার পর যশোর মেডিকেল কলেজের কাছে অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাড়ির কাছাকাছি শংকরপুর ইসহাক সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন দুর্বৃত্ত চলন্ত অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ও মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমান স্থানীয় মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, নিহতের মাথার দুপাশে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যার পর আলমগীর মোটরসাইকেলে করে বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিল। হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে কে বা কারা তাকে গুলি করে। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই।’
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দে ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড কাম্য না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।’
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক জানান, শংকরপুর ইসহাক সড়কে বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়েছে। তাঁর কপাল ও মাথায় দুটি গুলি লাগে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।