রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়ার বিরোধিতা করেন। এ সময় বলা হয়, জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে রাজশাহীতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তবে ওই অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আজ বুধবার সকাল থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলছিল। দুপুরে সেখানে গিয়ে এনসিপির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম ওরফে সাজু রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এবং তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান জরুরি বলেও এতে বলা হয়। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল—এমন মন্তব্যও অভিযোগে রয়েছে।
অভিযোগপত্রে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, আইন অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
এরপর নাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের সহযোগী বা দোসর হিসেবে বিবেচিত কোনো প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া উচিত নয়। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্যও দেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সমর্থনসূচক মন্তব্য করেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।