মাদারীপুরের শিবচরে রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণে ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ দেওয়ার নজিরবিহীন এক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন একটি সড়কে এই চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়রা এই অনিয়মের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিতর্কিত ওই গাইড ওয়ালটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চরকাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে নির্মাণাধীন গাইড ওয়ালের একাধিক স্থানে ইটের গাঁথুনির ভিত্তি হিসেবে মাটির নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণে শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে না আসায় ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি ঠিকাদার রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের ওপর কাজ ছেড়ে দিয়ে কোনো তদারকিও করেননি।
অভিযুক্ত ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার এই অনিয়মের দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “রাজমিস্ত্রি আমাকে না জানিয়েই এই কাজ করেছে। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। এখন কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেওয়া হবে।” তবে সড়কের অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী মানসম্মত বলে দাবি করেন তিনি।
এলজিইডি শিবচর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার জানান, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে কয়েকদিন কাজের জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগেই এই ধরনের অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে, মাদারীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কির্ত্তনীয়া বলেন, সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করছেন।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান ঘটনাটিকে ‘অকল্পনীয়’ অভিহিত করে জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।