রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান জানান, বাকি একজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবার দিনাজপুর থেকে পৌঁছালে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে।
এখন পর্যন্ত যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার রেহেনা আক্তার ও তার ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান; কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন, রাজীব বিশ্বাস, শিশু ইস্রাফিল ও আয়েশা সিদ্দিকা; রাজবাড়ী পৌরসভার জহুরা অন্তি, কাজী সাইফ, তাজবিদ ও সোহা আক্তার; গোয়ালন্দের মর্জিনা আক্তার ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার; কালুখালী উপজেলার ফাইজ শাহানূর, নাজমিরা ওরফে জেসমিন, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম; রাজবাড়ী সদর উপজেলার লিমা আক্তার, জোৎস্না ও সাবিত হাসান; বালিয়াকান্দির গাড়িচালক আরমান খান; গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম; দিনাজপুরের নাছিমা; ঢাকার আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার; ঝিনাইদহের শিশু আরমান এবং ফল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফেরি আসা মাত্রই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। প্রায় ৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে বাসটি টেনে তোলা হয়। বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় প্রতিটি নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার জন্যও জরুরি সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ আর কেউ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।