কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় করলা চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে নিষ্ঠুরভাবে লাঠিপেটা করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম ছালেহা বেগম (৪১)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংশিপাড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা তোলার সময় তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযোগ ওঠে যে, তাঁর কাছ থেকে এক বস্তা করলা উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির খবর পেয়ে ওই নারীর স্বামী বদিয়া মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাঁর স্ত্রীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
ঘটনার সময় সেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ ওই নারীকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি। উল্টো অনেকেই মুঠোফোনে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। জমির মালিক ফরহাদ হোসেন জানান, তাঁর খেত থেকে নিয়মিত সবজি চুরি হচ্ছিল বলে তাঁরা আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। হাতেনাতে ধরার পর খবর দেওয়া হলে বদিয়া মিয়া এসে এই কাণ্ড ঘটান।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, করলা চুরির অভিযোগে ছালেহা বেগমকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁর স্বামী এসে শাসন করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে জনসমক্ষে এভাবে বেঁধে মারধর করার বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই অমানবিক ঘটনার বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। কাউকে এভাবে গাছে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বা অন্য কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।