ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর সেটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ না করায় ট্রাম্প মাচাদোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ফক্স নিউজের কাছে মাচাদো স্বীকার করেন, তিনি এখনো ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেননি এবং গত অক্টোবরের পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো কথাও হয়নি।
মাচাদো জানান, নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার দিন, ১০ অক্টোবর তিনি একবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। তবু তাঁর মতে, এই পুরস্কার ভেনেজুয়েলার জনগণের অর্জন এবং সুযোগ পেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে এটি ভাগ করে নিতে চান।
মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছিল, মাচাদোকেই হয়তো নতুন শাসনভার দেওয়া হবে। কিন্তু শুরুতেই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে নেতৃত্ব দেওয়া মাচাদোর জন্য ‘খুব কঠিন’ হবে। পরবর্তী মন্তব্যে ট্রাম্প আরও কড়া ভাষায় বলেন, দেশের ভেতরে মাচাদোর পর্যাপ্ত জনসমর্থন বা সম্মান নেই।
ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, মাচাদো যদি নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে সেটি ট্রাম্পের নামে উৎসর্গ করতেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষায়, পুরস্কার গ্রহণ করাটাই ট্রাম্পের চোখে ছিল ‘বড় অপরাধ’।
এদিকে মাচাদো ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেলসি রদ্রিগেজের নিয়োগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে দেশ থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি।
গত মাসে গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার পর অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, তিনি শিগগিরই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেলসি রদ্রিগেজের দায়িত্ব গ্রহণকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘রদ্রিগেজ নিপীড়ন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের প্রধান স্থপতিদের একজন।’
উল্লেখ্য, দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মাচাদোর দাবি, ভেনেজুয়েলার জনগণ এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং ভোটাররা প্রকৃতপক্ষে বিরোধীদের পক্ষেই ছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ও স্বচ্ছ নির্বাচন হলে আমরা ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পাব—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’