ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার প্রেক্ষাপটে ওই অভিযানের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেওয়া এক বক্তব্যে পেত্রো ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এসে আমাকে ধরুন। আমি এখানেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কলম্বিয়ায় বোমা হামলা চালায়, তাহলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।
পেত্রোর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘যদি তারা বোমা ফেলে, তাহলে কৃষকরা পাহাড়ে হাজার হাজার গেরিলায় পরিণত হবে। আর যদি তারা এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আটক করে, যাকে দেশের একটি বড় অংশ ভালোবাসে ও সম্মান করে, তাহলে তারা জনগণের “জাগুয়ার”কে মুক্ত করে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শপথ করেছিলাম আর কখনো অস্ত্র ধরবো না। কিন্তু মাতৃভূমির জন্য হলে আমি আবার অস্ত্র তুলে নেবো।’
পেত্রোর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘মাদুরোও একই কথা বলেছিল!’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘হ্যাঁ, মাদুরোও একই কথা বলেছিল। এটা অসম্ভব কিছু নয়।’
এদিকে মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, কলম্বিয়া পরিচালিত হচ্ছে এমন একজন মানুষের দ্বারা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কলম্বিয়াও খুব অসুস্থ। দেশটি চালাচ্ছে একজন অসুস্থ মানুষ, যে কোকেন বানাতে ও তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে ভালোবাসে। আমি আপনাদের বলে দিচ্ছি, সে আর বেশি দিন এটা করতে পারবে না।’
মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প আরও বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়টি তার কাছে ‘ভালোই শোনাচ্ছে’। একই ধরনের সতর্কবার্তা তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকেও দেন।
এ অবস্থায় ভেনেজুয়েলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পেত্রোর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন হোয়াইট হাউজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মাদুরোর সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন আর নেই।’
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র যখন মাদুরোকে ধরিয়ে দিতে ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ায়, তখন এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এসে আমাকে ধরুন। আমি এখানে মিরাফ্লোরেসে তার জন্য অপেক্ষা করবো। দেরি করবেন না, কাপুরুষ।’
হোয়াইট হাউজের শেয়ার করা এক ভিডিও ক্লিপে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মাদুরোর ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যের অংশের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার অভিযানের দৃশ্যও দেখানো হয়। ৬১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ভেনেজুয়েলায় চালানো হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের অংশ ছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘মাদুরো তার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর নেই।’