পেন্টাগনের নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই কৌশল অনুযায়ী, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদেশগুলোকে আগের তুলনায় আরও সীমিত সহায়তা দেবে এবং মূল মনোযোগ দেবে নিজ ভূখণ্ড ও পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
প্রতি চার বছর অন্তর প্রকাশিত এই প্রতিরক্ষা কৌশলের সর্বশেষ সংস্করণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নিরাপত্তা লক্ষ্য এখন আর চীনকে কেন্দ্র করে নয়। বরং দেশটির ভূখণ্ড, সীমান্ত ও পশ্চিম গোলার্ধের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আগের সংস্করণগুলোতে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এবারের প্রতিবেদনে সুর বদলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে শক্তির ভারসাম্যের মাধ্যমে সম্পর্ক পরিচালনার কৌশল নেওয়া হবে।
নতুন এই নথিতে মিত্রদেশগুলোর প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়। এতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো হুমকি মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রত্যাশা করা হয়েছে।
৩৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ধারাবাহিকতায় তৈরি। ওই প্রতিবেদনে ইউরোপকে সভ্যতাগত সংকটের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখানো হয়নি। সে সময় মস্কো জানিয়েছিল, ওই মূল্যায়নের সঙ্গে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালে পেন্টাগন চীন ও রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। নতুন কৌশলে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নিজের সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রশ্নে অতিরিক্ত ভূমিকা নিয়েছে। এখন থেকে বিশ্বের অন্য অঞ্চলের ঝুঁকিকে আর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
নতুন কৌশল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও ইউরোপ বা অন্য মিত্রদের জন্য বেশি বিপজ্জনক এমন হুমকির মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নেতৃত্ব নিতে হবে। এই নীতির মাধ্যমে ওয়াশিংটন তার বৈশ্বিক ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ করতে চায় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।