বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতার মধ্যে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (রেয়ার আর্থ) নিশ্চিত করতে একটি কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে ভারত ও ব্রাজিল। আজ শনিবার নয়া দিল্লিতে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই চুক্তির ঘোষণা দেন।
এই চুক্তির আওতায় দুই দেশ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে একে অপরকে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ-সংক্রান্ত এই চুক্তি একটি নতুন ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। মূলত ইলেকট্রনিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতেই ভারত এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেয়ার আর্থ মজুতকারী দেশ হিসেবে ব্রাজিল ভারতের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প উৎস হতে পারে। তিন দিনের সফরে গত বুধবার ভারতে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট লুলা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পর ভারত ও ব্রাজিল নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য মোকাবিলা করাই এই দুই দেশের মূল লক্ষ্য। ভারত ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগেও যোগ দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের জন্য নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট লুলা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই এই চুক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু। উভয় দেশই কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। গত জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদির ব্রাজিল সফরের সময় প্রতিরক্ষা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা নতুন মাত্রা পেল।