ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ রাখার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরালা বিধানসভায় ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুইবার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর অবশেষে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকার এতে সায় দিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় জানান, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেরালার জনগণের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। মূলত মালয়ালম ভাষায় রাজ্যটি ‘কেরলম’ নামে পরিচিত হওয়ায় পিনারাই বিজয়ন সরকার সংবিধানের অষ্টম তফসিল সংশোধন করে এই নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণের এই রাজ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতেই বিজেপি সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
কেরালার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরালাবাসীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব ঝুলে থাকলেও কেন্দ্র তা অনুমোদন দিচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেরালায় ক্ষমতাসীন সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির ‘লিখিত জোট’ রয়েছে বলেই এই দ্রুত অনুমোদন মিলেছে। নামের আদ্যক্ষর ‘ডব্লিউ’ (West Bengal) হওয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে কথা বলার সুযোগ সবার শেষে আসে উল্লেখ করে তিনি জানান, নাম ‘বাংলা’ হলে তালিকায় শুরুতেই স্থান পেত রাজ্যটি।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভা সদস্য শশী থারুর এই নাম পরিবর্তন নিয়ে কিছুটা হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের পর এখন সেখানকার বাসিন্দাদের পরিচয় কী হবে? ‘কেরালামাইট’ বা ‘কেরালামিয়ান’—এমন শব্দগুলো শুনতে অদ্ভুত লাগে বলেও তিনি খোঁচা দেন।
উল্লেখ্য, ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ ত্যাগের অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘মোগল উদ্যান’-এর নাম বদলে ‘অমৃত উদ্যান’ এবং ‘রাজপথ’-এর নাম ‘কর্তব্য পথ’ রেখেছে। কেরালার নাম পরিবর্তন এবং সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবনে এডউইন লুটিয়েন্সের পরিবর্তে রাজাগোপালাচারির মূর্তি স্থাপনকেও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে বিজেপি সরকার।