সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু খালাফ আহমদ আল-হাবতুর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি কড়া খোলাচিঠি লিখেছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে ইরানে আকস্মিক হামলার ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে যে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আল-হাবতুর প্রশ্ন তুলেছেন, কার অনুমতিতে এবং কিসের ভিত্তিতে ট্রাম্প এই সংঘাতের মধ্যে আরব অঞ্চলকে জড়িয়েছেন।
খোলাচিঠিতে আল-হাবতুর উল্লেখ করেন, যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো যে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে, তা ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবেচনায় নেননি। তিনি বিদ্রূপের সুরে বলেন, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর কালি শুকানোর আগেই এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপদে ফেলেছে। আল-হাবতুর মনে করেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রকৃত নেতৃত্ব নয়, বরং প্রজ্ঞা ও শান্তির অন্বেষাই একজন নেতার আসল পরিচয়।
এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে কাতার, আরব আমিরাত ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব ইতিমধ্যে তাদের সরবরাহ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে সত্তর দশকের মতো ‘মন্দাস্ফীতি’ তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় চীন, ভারত ও জাপানের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন ও কৃষি খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।