ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রীরা। সর্বশেষ গত শনিবার প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর আগামী শুক্রবার আবারও দলটির সাবেক নেতাদের অংশগ্রহণে আরেকটি আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—কেন দিল্লি, কেনই বা ভারতীয় গণমাধ্যম? কি বার্তা এবং কাকে টার্গেটে রেখে একের পর এক বার্তা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আয়োজকরা বলছেন, এসব আয়োজন আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচি নয়। ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ দাবি করে তার জবাব তুলে ধরাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে বাস্তবে সাবেক মন্ত্রীদের উপস্থিতি এসব আয়োজনকে অনিবার্যভাবেই রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে। (আপস)
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিধিনিষেধ থাকায় বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করা আওয়ামী লীগের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে অনুসৃত হওয়ায় দিল্লিতে দেওয়া বক্তব্য সহজেই বাংলাদেশের জনগণের কাছেও পৌঁছে যায়। ফলে এটি পরোক্ষভাবে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ীর মতে, মানবাধিকার ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুকে সামনে রেখে ভারতীয়, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার জাতীয় গণমাধ্যমকে টার্গেট করাই ছিল এসব সংবাদ সম্মেলনের লক্ষ্য। যদিও আয়োজনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের নামে হয়নি, সাবেক মন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, ইউরোপ বা অন্য দেশের তুলনায় ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বেশি আগ্রহী। তাই দিল্লিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, কলকাতায় হলে আগ্রহ আরও বেশি হতে পারত, তবে দিল্লিতে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বেশি।
সব মিলিয়ে, দিল্লিতে এসব সংবাদ সম্মেলন শুধু মানবাধিকার প্রতিবেদন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের অবস্থান ও বক্তব্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিসরে তুলে ধরার একটি সচেতন প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।