সুতা আমদানি ও বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তথ্যগত বিভ্রান্তি ও বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
সংগঠনটি বলেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই; বরং সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ জানায়, ৮ জানুয়ারি ট্যারিফ কমিশনের সভার কার্যবিবরণী প্রকাশের আগেই— ১২ জানুয়ারি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এতে স্পষ্ট হয়, আলোচনার প্রক্রিয়াটি ছিল আনুষ্ঠানিক, সিদ্ধান্ত ছিল পূর্বনির্ধারিত।
বিজিএমইএ’র মতে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতায় নতুন শুল্ক আরোপ হচ্ছে না, এমন বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। বর্তমানে সুতা আমদানিতে মোট শুল্ক প্রায় ৩৯ শতাংশ। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প বন্ড সুবিধার কারণে এ সুতা শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করে। বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার মানেই কার্যত এই ৩৯ শতাংশ কর সরাসরি শিল্পের ওপর চাপানো, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সংগঠনটি আরো বলেছে, বন্ড সুবিধার সুফল কেবল বিদেশি ক্রেতারা পান; এ দাবি সঠিক নয়। বন্ড ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধাই গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। সুতা আমদানিতে কৃত্রিম বাধা তৈরি হলে ক্রেতারা অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারে বা সরাসরি গ্রে ফেব্রিক আমদানির নির্দেশ দিতে পারে, যা স্থানীয় নিটিং ও কম্পোজিট মিলগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর ভর্তুকি প্রসঙ্গে বিজিএমইএ তথ্যগত অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরে।
বিটিএমএ সভাপতি যেখানে প্রতি কেজি সুতায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকির কথা বলেছেন, সেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী এ ভর্তুকি প্রায় ৩০ সেন্ট। নীতিগত সিদ্ধান্তে এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি শিল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ বলেছে, গ্র্যাজুয়েশনের পর রপ্তানি সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলকভাবে দেশি সুতা ব্যবহারের কোনো শর্ত নেই। ‘ডাবল ট্রান্সফরমেশন’ নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি সুতা ব্যবহার করেও দেশে কাপড় ও পোশাক উৎপাদন করলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূল্য সংযোজন অর্জন সম্ভব।
বিজিএমইএ জানায়, চার দশকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা পোশাক শিল্প আজ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে।
এই শিল্প ৪০ লাখ শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। তাই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য শিল্পের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারে।
সংগঠনটি জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা দরকার।
টিবিএফ/