বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের কন্যা নিতারা ভাটিয়াকে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব ও হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। ভিডিও গেম খেলার সময় তারকাকন্যাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং নগ্ন ছবি দাবি করার অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তের পর মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগ অবশেষে ওই অপরাধীকে শনাক্ত ও আটক করতে সক্ষম হয়। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি পুনরায় সামনে এল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালে। মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সাইবার সচেতনতা মাস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অক্ষয় কুমার। সেখানেই নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন অভিনেতা। অক্ষয় জানান, নিতারা একটি অনলাইন গেম খেলার সময় জনৈক এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিতারার লিঙ্গ পরিচয় জানতে চান। নিতারা নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরপরই ওই ব্যক্তির আচরণ বদলে যায় এবং সে নিতারার কাছে নগ্ন ছবি চেয়ে বসে।
এমন পরিস্থিতিতে নিতারা বিচলিত না হয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। সে তাৎক্ষণিকভাবে গেমটি বন্ধ করে তার মা টুইঙ্কেল খান্নার কাছে ছুটে যায় এবং বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে। অক্ষয় কুমার এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অক্ষয় সে সময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এভাবেই অনলাইনে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশুরা অনিরাপদ হয়ে পড়ে। তিনি মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে স্কুলগুলোতে প্রতি সপ্তাহে সাইবার সচেতনতামূলক ক্লাস চালু করারও আবেদন জানিয়েছিলেন।
সম্প্রতি ‘আরডি ন্যাশনাল কলেজ’-এ সাইবার সচেতনতা বিষয়ক এক অধিবেশনে যোগ দিয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যশস্বী যাদব এই মামলার অগ্রগতির কথা জানান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, অক্ষয় কুমারের মেয়ের অনলাইন হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
যশস্বী যাদব নিতারার সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ব্ল্যাকমেল বা হয়রানির শিকার হওয়ার পর ভয় না পেয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি জানানোই ছিল বড় সার্থকতা। অক্ষয় ও টুইঙ্কেল সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তারকাকন্যার এই উদাহরণ ব্যবহার করে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদেরও আরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।