জুলাই অভ্যুত্থানে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের আগে এসব উদ্ধার জরুরি। তাঁর মতে, অবৈধ এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার না হলে নির্বাচনী নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইসি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের গান রানিং হয়। অস্ত্রের একটা সঞ্চালন দেখা দেয়। সন্ত্রাসীদের কদর বেড়ে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও আনুমানিক ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এগুলো খুঁজে পেতে হবে। শতভাগ খুঁজে পাবেন তা আশা করা যায় না। তবে যারা এগুলো নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে বা উদ্ধার করতে পারলে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এছাড়া হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আনুমানিক ৭০-৭৫ শতাংশ উদ্ধার করা গেছে।’
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মাঝে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে অস্ত্র প্রবেশের আশঙ্কা এড়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। ক্যাম্পগুলো সিল করার পাশাপাশি স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনোভাবেই এসব ক্যাম্প বা সীমান্তপথ ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি সবাইকে ভোগ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হয় ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২ রাউন্ড গোলাবারুদ। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হলেও এখনো পুরোপুরি উদ্ধার সম্ভব হয়নি।