বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এ প্রেক্ষাপটে তাঁর পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দায়িত্ব নিতে যাওয়া বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কারও জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকা চূড়ান্ত হয়নি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাস করেন। নির্বাচিত হলে তিনি দেশের সেরা মেধাকে কাজে লাগাতে চান।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়নি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সুবিধাজনক সময়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ আছে। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গেও সে ধরনের আলোচনা হতে পারে—এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
তিনি যোগ করেন, ‘রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেশকে ভেতরে ও বাইরে শক্ত অবস্থানে নিতে যে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তারেক রহমান সেটিই নেবেন। দলীয় স্বার্থে উন্নয়ন ভাবনাকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। প্রয়োজন হলে দক্ষ ব্যক্তিকে সঙ্গে নেবেন।’ তবে তিনি পুনরায় বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়নি।’
বাংলাদেশবিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মত দেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইউনূস দেশের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় সমালোচনা থাকলেও বৈশ্বিক পরিসরে ইউনূসের মর্যাদা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমমর্যাদার আর কেউ নেই। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিকমুখী একজন রাষ্ট্রপতির সমন্বয় দেশের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে তারেক রহমান ও ইউনূসের মধ্যে আলোচনা হয়েছে—এমন দাবি উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছে।
এদিকে অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আর কোনো সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক ভূমিকায় আগ্রহী নন। তাঁর ভাষায়, ‘তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো আগের কাজে ফিরে যাওয়া। তিনি ‘তিন শূন্য’—দারিদ্র্য শূন্য, বেকারত্ব শূন্য ও নিট কার্বন নিঃসরণ শূন্য—এই ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান। নতুন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ গড়ার পরিকল্পনাও আছে। তরুণদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে তার শূন্য আগ্রহ। কোনো সাংবিধানিক পদ নয়। তিনি মনে করেন সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়েছেন। নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর বেশির ভাগ অর্জিত হয়েছে। এখন ক্ষমতা নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
অধ্যাপক ইউনূস নিজে এখনো প্রকাশ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেননি। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।