আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বরিশাল ক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো ধরনের যাত্রী হয়রানি বা বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। এমনকি বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম মূল্যে যেন যাত্রী পরিবহন করা যায়, সে বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দর এলাকায় হকারদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এবং অসাধু চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চুরি-ছিনতাই বা হয়রানি রোধে বন্দর এলাকাকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার সদরঘাটের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থার তথ্য জানিয়ে রাজিব আহসান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে বছিলা ও কাঞ্চন ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মধ্য ঢাকার যাত্রীরা, বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নাব্যতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব এলাকায় ড্রেজিং প্রয়োজন সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সরকারি ড্রেজার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও নাব্যতা সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকনসহ স্থানীয় চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।