জাতীয় সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বান করা না-করা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিপরীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদ্যমান সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের আইনি ভিত্তি না থাকায় রাষ্ট্রপতি এর অধিবেশন ডাকতে পারেন না।
সকাল ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এই আদেশের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য জুলাই আদেশ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আমরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই, যা আইনত সিদ্ধ।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই আদেশটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেন। সংবিধানের ৯৩ (১) (ক) ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে এমন কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা সম্ভব নয়। এই আদেশের অস্পষ্ট প্রকৃতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আদেশটি না অধ্যাদেশ, না আদেশ—একে আমি “ক্লীবলিঙ্গ” বলতে পারি। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই, তাই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে এ বিষয়ে কোনো পরামর্শও দিতে পারেন না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের একটি অংশ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, বরং আইন ও সংবিধান দিয়ে চলে। গণভোটের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে; সংবিধান যদি তা ধারণ করে তবেই শপথের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হবে।
সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জুলাই জাতীয় সনদ পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসি এবং সমঝোতার ভিত্তিতে বিল আনি, যাতে সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া যায়।’ সংসদে এই পাল্টাপাল্টি যুক্তি সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।