শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতের অনুমোদনের পর এনআইএ তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে গতকাল সোমবার রাতে দিল্লিতে নিয়ে গেছে। এখন দিল্লির এনআইএর বিশেষ আদালতে তাদের তোলা হবে এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে গোয়েন্দারা এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের আটক করেছিল। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রথমে তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। রিমান্ড শেষে গত ২ মার্চ আদালত তাদের ১২ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এদিকে, হাদি হত্যা মামলার আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করার দায়ে গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি ফিলিপ সাংমাকে আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২২ মার্চ আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ তবে সাংবাদিকেরা তাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, সেই মোটরসাইকেলে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন।