বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুগ্ম সচিব জানান, সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের এক বৈঠকে রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাস বা ছয় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য ‘স্যাংশন ওয়েভার’ বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ওয়াশিংটনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। ভারতকে দেওয়া অনুরূপ সুবিধার আদলেই বাংলাদেশ এই ছাড় চেয়েছে।
জ্বালানি আমদানির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন তেল পাওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের শুরুতে মাত্র পাঁচ হাজার টন পাওয়া গিয়েছিল। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার পর বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে শিগগিরই আরও ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলবাহী দুটি কার্গো আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিকল্প উৎস খোঁজার বিষয়ে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সরকার নিয়মিতভাবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও এঙ্গোলা থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশকে (ভারত, পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়া) সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য বিদেশি জাহাজের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।