দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও মজুত বাড়াতে জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী। আজ শনিবার বিকেল সোয়া ৫টায় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উভয় কমিটির সভাপতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মোট তিনটি কোম্পানির কাছ থেকে ডিজেল ও অকটেন কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতেই ছুটির দিনে এই জরুরি আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্রয় কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব তোলা হতে পারে। এ ছাড়া ইউএইর অপর প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ টন এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদিত হলে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আগামী মে ও জুন মাসের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। আজ যে ১৭ লাখ টন জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব করা হচ্ছে, তার মধ্যে ১৬ লাখ টনই ডিজেল। নিয়ম অনুযায়ী, ক্রয় কমিটিতে প্রস্তাব পাসের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি নেওয়া হবে। এরপর ঋণপত্র বা এলসি খোলার মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করবে বিপিসি।
এর আগে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে মজুত নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। বিশেষ করে অকটেনের সরবরাহ যথেষ্ট স্বাভাবিক রয়েছে এবং অন্তত তিন মাস চলার মতো পর্যাপ্ত মজুত দেশে আছে। এপ্রিল মাসের ডিজেলের চাহিদাও বর্তমান মজুত দিয়ে মেটানো সম্ভব। মূলত ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেই সরকার এই ত্বরিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।