সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই অভিযোগ দায়ের করেন। দুদক অভিযোগটি গ্রহণ করে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ড. আসিফ নজরুলের পাশাপাশি তাঁর তৎকালীন একান্ত সচিব (পিএস) ও বর্তমান জেলা জজ শামসুদ্দিন মাসুমের সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের মূল ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসের শাসনামলে আইন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না মেনে কেবল ঘুষের বিনিময়ে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এমনকি ঘুষের টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত রাখার মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তৎকালীন আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। বদলি বাণিজ্য ছাড়াও বিভিন্ন ‘অনুরোধ ও নির্দেশ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে আইনজীবী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
দুদকের কাছে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক আইন উপদেষ্টা ও তাঁর একান্ত সচিবের দুর্নীতি বর্তমানে একটি ‘প্রকাশ্য’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই অভিযোগগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দুদক এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে।