জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।’
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অংশ।
এই আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের সামনে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এখন বিভাজন ও সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সাংবাদিকদের সমস্যা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারগুলোর প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
বিএনপি জুলাই সনদ সম্পর্কে একমত হলেও, গণভোট নিয়ে দ্বিমত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ বিএনপি শুরু থেকেই করেছে। বিএনপি জুলাই সনদ প্রতিটি অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই শহীদসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।