‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’—এমন বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনের চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কর্মস্থলে অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বর্তমানে তিনি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ নেওয়া হলে কমিশনও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পক্ষে মত দেয়।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এখন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর ইকবাল হোসাইনের বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
যে বক্তব্যে আলোচনায় ইকবাল
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো নিয়ে তাকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
ট্রাইব্যুনালে মামলাও চলছে
ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় তাকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাইমকে গুলি করে হত্যা এবং তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি করা হয়। ইকবালের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।