সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া–এর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন ছাত্র প্রতিনিধি পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। “এই দুর্নীতি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ওপেন সিক্রেট। এর বিচার অবশ্যই এ দেশের মাটিতেই হতে হবে,”—বলেন নাছির উদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখছি, তিনি এখন নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানি দিচ্ছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কারো চোখ রাঙানিতে কমিশনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।” নাছির উদ্দিন দাবি করেন, জুলাই–আগস্টের পর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের মানুষ জানে। এসব হুমকি–ধমকিতে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ভয় পায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৫ আগস্টের পর কেউ কেউ কমিশনের সামনে ভয়ভীতি তৈরির চেষ্টা করছে। “সংবিধান, আইন ও দেশের মানুষ আপনাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা নিয়ে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করুন,”—বলেন তিনি।
বক্তব্যে নাছির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত উপাচার্যদের মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো “মিথ্যাবাদী শিক্ষক” আর নেই। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হলেও তা গোপন রাখা হয়। পরে ঢাকায় এসে “নিজের পছন্দের সংগঠন ছাত্রশিবিরকে জেতাতে তদবির করে” আবার নির্বাচনের তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, “একটি নির্বাচনের আগে টানা ছয় দিন প্রচারণা বন্ধ থাকলে সেই নির্বাচন কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়?” এ অবস্থায় ওই উপাচার্যের নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করে তিনি অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান।
নাছির উদ্দিন আরও বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ইতোমধ্যে আটজন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর মতে, এমন বিতর্কিত কমিশন ও বিতর্কিত উপাচার্য রেখে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
শেষে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। তিনটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত রাত পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।