আবু সাঈদের মৃত্যু গুলিতে হয়নি, অন্য কোনো কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। একই দিনে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনাল–২ রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখে।
আজিজুর রহমান দুলু বলেন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। তিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনসহ তিনজনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তার যুক্তির একটি অংশ ছিল—আবু সাঈদের ওপর যে রাবার বুলেট বা পিলেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ছিল কি না। এ বিষয়ে প্রসিকিউশন কোনো খণ্ডন করতে পারেনি। এর ফলে গুলিতে মৃত্যুর দাবি প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, আবু সাঈদের গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র ছিল না, যা মাথায় আঘাতজনিত মৃত্যুর সম্ভাবনাকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটিতেও সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই। এ কারণে প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ।
আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনার সময় ছয়জন পুলিশ সদস্য আবু সাঈদকে ঘিরে ধরেন এবং একজন লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা হিসেবে আবু সাঈদ হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পুলিশের এক সদস্যের আঘাত প্রতিহত করেন। তিনি বলেন, মামলার নথিতে আবু সাঈদের সাহসী প্রতিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
গেঞ্জিতে ছিদ্র না থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্যে জানিয়েছেন গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র নেই এবং সেটি সামনের না পেছনের অংশ—তাও তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তার মতে, এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব প্রসিকিউশনের ছিল। এ সন্দেহের সুযোগে আসামিরা খালাস পেতে পারেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্ন থাকার বিষয়ে দুলু বলেন, এটি কেবল ছবিভিত্তিক তথ্য। আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত নিশ্চিত করতে এক্স-রে ও রেডিওস্কপি প্রয়োজন হয়। এসব পরীক্ষা না হওয়ায় শরীরে গুলির অংশবিশেষ ছিল কি না—তা নির্ণয় করা যায়নি। তিনি বলেন, কোনো কার্তুজ জব্দ হয়নি এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকও এক্স-রে বা রেডিওস্কপি করতে বাধা পাওয়ার কথা বলেননি; তিনি কেবল প্রতিবেদনের মন্তব্য পরিবর্তনে বাধ্য হওয়ার কথা বলেছেন।
রায়ের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে দুলু বলেন, আসামিদের খালাস দিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজনকে মাত্র আসামি করা হয়েছে। বাকি দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।