ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাসনিম জারা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবো। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে।’
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও অভিনন্দন। গতকাল রাতেই আমি তাকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবো। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকবো।’
নারীদের অংশগ্রহণকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। যে কিশোরী বা তরুণীরা এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখেছো, তোমাদের বলছি—স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমারও অধিকার আছে।’
স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভলান্টিয়াররা এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত আপনারা তৈরি করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। মন খারাপ করবেন না। আপনারা মানুষের মন জয় করেছেন, আর সেটাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়। আমরা সংগঠিত থাকবো, সোচ্চার থাকবো, একসঙ্গে থাকবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, ‘আজকের দিনটি সম্ভব হতো না যদি জুলাইয়ের অকুতোভয় যোদ্ধারা রাজপথে বুক পেতে না দাঁড়াতেন। গণতন্ত্রের যে স্বাদ আমরা পাচ্ছি, তা তাদের আত্মত্যাগের ফসল।’ তিনি অধ্যাপক ইউনূস ও তার টিম এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
৪৪ হাজারের বেশি ভোট পাওয়াকে বড় ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইন ও ফলাফল প্রমাণ করেছে মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। আমরা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছি। আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’