‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত রায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রতিফলিত না হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আলোচনার পর স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তারা সংসদের ভেতরেই সমাধান চেয়েছিলেন এবং জনগণের চূড়ান্ত রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি দল ও স্পিকার সেই রায়কে গুরুত্ব দেননি। জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওয়াকআউট করলেও তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করেননি, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করতে বদ্ধপরিকর।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিগত তিনটি গণভোটে জনগণের রায়কে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, এবারের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ একমত হওয়া সত্ত্বেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে। এখন তাদের একমাত্র পথ হলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা।
তিনি জানান, অচিরেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র ও সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে পরিচালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ওপর দুই ঘণ্টার আলোচনা হয়। আলোচনার শেষে বিরোধীদলীয় নেতার নোটিশের ওপর স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। স্পিকার তাদের ওয়াকআউটের অধিকার স্বীকার করলেও পরবর্তী মুলতবি প্রস্তাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।