বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো রক্ষায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষের রক্তের বিনিময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্জনগুলো এখন হুমকির মুখে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আসিফ নজরুলসহ তৎকালীন উপদেষ্টাদের উচিত এই সংস্কারগুলো ধরে রাখতে রাজপথে সোচ্চার হওয়া। তাঁরা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন, এটা জনগণ মেনে নেবে না।’
বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর বিএনপি এখন স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটছে। গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো তারা আইনে পরিণত করছে না। এর মাধ্যমে তারা নির্বাহী বিভাগের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে। বিএনপিকে একটি ‘সংস্কারবিরোধী দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে তাদের নেতৃত্বে মানুষের আস্থা ছিল না বলেই দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি।
বর্তমানে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। এনসিপি আমূল পরিবর্তন ও নতুন সংবিধান চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি পুরোনো ব্যবস্থায় নির্বাচন চেয়েছিল। এখন সংসদে যেহেতু কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না, তাই রাজপথেই অবস্থান নিতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো কার্যকর করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সতর্ক করে বলেন, সামনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে ব্যর্থ হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন, সেগুলো এখন বাতিল হচ্ছে। আপনাদের মুখ খুলতে হবে এবং জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। আজ বেলা পৌনে ২টায় বিমানে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।