বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) তদন্ত কমিটি এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও আসিফ মাহমুদ এই তদন্ত প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিসিবি নির্বাচন সংক্রান্ত এই তদন্তে অংশ না নেওয়ার পেছনে চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় এর ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই আগে থেকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই তদন্ত প্রক্রিয়া আদালত অবমাননার শামিল বলে তিনি মনে করেন। সবশেষে তিনি অভিযোগ করেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বর্তমান বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী মেয়াদে পদের লোভ দেখিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে যখন তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়, তখন তিনি এই প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে বিচারাধীন বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার নিয়ে কোনো সদুত্তর পাননি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জেনে-বুঝে কোনো নিয়মবহির্ভূত বা আদালত অবমাননার মতো কাজে অংশ নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিসিবির গত নির্বাচনের প্রক্রিয়া কতটা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
এদিকে গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন বর্জন করেছিল ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ। এর ফলে দেশের ক্লাব ক্রিকেটে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে, যা তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। মূলত ক্লাব ক্রিকেটের এই অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যেই এনএসসি নির্বাচনের স্বচ্ছতা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল।