চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এম. মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীস্থ বাসভবন ‘এইচ এম ভিলা’য় গিয়ে ছাত্রদল ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সংসদ সদস্য কেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার বাসায় গিয়েছেন, তা নিয়ে ছাত্রদল ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতির উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো গোপন বৈঠক হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কেউ কেউ তাকে ‘দালাল’ বলেও আখ্যা দেন। পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসনাত আবদুল্লাহ দ্রুত ওই বাসা থেকে বের হয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহেদ আকবর জানান, তারা সেখানে গিয়ে আগমনের কারণ জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান যে তিনি কেবল চা খেতে এসেছেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাকে সম্মানের সঙ্গেই গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। আকবর শাহ থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, বাসার সামনে কিছু স্লোগান দেওয়া হলেও বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়েনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য হলো, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক আলাদা থাকে। তিনি কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্যে সেখানে চা খেতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে সাবেক মেয়র মনজুর আলমও একে একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। সেখানে কিছু ছাত্রদল কর্মী তার সঙ্গে ছবি তুলতে না পেরে সামান্য হট্টগোলের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন এবং বর্তমানেও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।