নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে লিটন কুমার দাসের দল।
চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে (বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম) তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কিউইদের উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। ওপেনিংয়ে টিম রবিনসন দ্রুত রানআউট হলেও ড্যান ক্লেভার এবং কাটেনে ক্লার্কের ব্যাটে চড়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোয় সফরকারীরা। দুজনেই ব্যক্তিগত ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ক্লার্ক ও ক্লেভারকে বিদায় করে ম্যাচে ভারসাম্য ফেরান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলির ২৭ বলে ৩৯ রানের ক্যামিওতে ১৮২ পর্যন্ত পৌঁছায় কিউইরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ ২টি এবং সাকিব, শরিফুল ও শেখ মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন। শেষ ওভারে রিপন মণ্ডলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং কিউইদের রানের গতি কিছুটা আটকে দেয়।
জবাব দিতে নেমে ওপেনিং জুটিতে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ৪১ রান যোগ করেন। সাইফ ১৭ ও অধিনায়ক লিটন ২১ রান করে বিদায় নিলেও বাংলাদেশের রান রেট সচল ছিল। তবে ৭৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললে কিছুটা চাপের সৃষ্টি হয়। সেই চাপ সামাল দিতে মাঠে নামেন পারভেজ হোসেন ইমন। হৃদয়ের সাথে মিলে মাত্র ২৯ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তিনি। ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে আউট হলেও জয় থেকে লক্ষ্য বিচ্যুত হয়নি টাইগারা।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ছয়ে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ব্যাটিং। তাওহীদ হৃদয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চার-ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দেন তিনি। শামীমের ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসে ছিল দর্শনীয় সব ছক্কা। অন্যপ্রান্তে টিকে থাকা তাওহীদ হৃদয় ২৭ বলে ৫১ রানের হার না মানা অর্ধশতক পূর্ণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ২ ওভার বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ফিল সিমন্সের শিষ্যরা কিউইদের বিপক্ষে আগের ১৩৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ভেঙে আজ ১৮৩ রানের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। দুর্দান্ত এই জয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বইছে আনন্দের জোয়ার।